# বাচ্চাকে জিম্মি করে ‘মুক্তিপণ’ আদায় করে ভোঁদড়

- Link: https://znews.news/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%95/
- Published: ২০২৬-০৬-০৮T১৪:২৭:৫৬+০৬:০০
- Author: znews

**জেড নিউজ ডেস্ক : **

সমুদ্রের ঢেউয়ে ভেসে বুকে বাচ্চা জড়িয়ে ধরে আছে সামুদ্রিক ভোঁদড়। সামাজিকমাধ্যমে এসব
ছবি ও ভিডিও নিয়মিতই মানুষের মন জয় করে নেয়। তাদের শান্ত, আদুরে আর পারিবারিক আচরণ 
দেখে অনেকেই মুগ্ধ হন। কিন্তু এই মিষ্টি চেহারার আড়ালে লুকিয়ে আছে বিস্ময়কর এবং কিছুটা
নির্মম এক বাস্তবতা।

ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে টানা সাত বছর ধরে ১৩টি পুরুষ ভোঁদড় এবং ৫০টি মা-শাবক জুটির 
আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন ‘মন্টেরি বে অ্যাকোয়ারিয়াম’-এর গবেষক মেরিয়েন রিডম্যান। গবেষণায়
উঠে আসে চাঞ্চল্যকর এক তথ্য। মা ভোঁদড় যখন সমুদ্রের গভীরে খাবার সংগ্রহ করতে ডুব দেয়,
তখন সুযোগ বুঝে কিছু পুরুষ ভোঁদড় শাবককে ছিনিয়ে নেয়। এরপর মা খাবার নিয়ে না ফেরা পর্যন্ত
তারা শাবককে পানির নিচে চেপে ধরে রাখে বা ভয় দেখায়। অনেক ক্ষেত্রে শাবককে ছেড়ে দেওয়ার
বিনিময়ে মায়ের কাছ থেকে খাবার আদায় করে নেয় তারা। আচরণটি অনেকটা মুক্তিপণ আদায়ের মতো।

গবেষণায় দেখা গেছে, এই কৌশল ব্যবহার করে একটি পুরুষ ভোঁদড় তার মোট খাদ্যের প্রায় এক-
তৃতীয়াংশ পর্যন্ত সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। আচরণটি এতটাই নিয়মিত ও স্বতন্ত্র যে গবেষকরা
এর নাম দিয়েছেন ‘হোস্টেজ বিহেভিয়ার’ বা ‘জিম্মি আচরণ’।

সামুদ্রিক ভোঁদড় উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে ছোট সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীদের একটি। পূর্ণবয়স্ক
একটি ভোঁদড়ের দৈর্ঘ্য চার ফুট পর্যন্ত এবং ওজন প্রায় ৯০ পাউন্ড হতে পারে। কিন্তু শরীরের
তাপমাত্রা ধরে রাখতে তাদের প্রতিদিন নিজের ওজনের প্রায় ২৫ শতাংশ সমপরিমাণ খাবার খেতে
হয়।

বর্তমানে সামুদ্রিক ভোঁদড় তাদের ঐতিহাসিক আবাসস্থলের মাত্র ১৩ শতাংশ এলাকায় টিকে আছে।
ফলে সীমিত এলাকায় খাদ্যের জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, খাদ্যসংকট
ও প্রতিযোগিতার চাপই এমন আচরণের অন্যতম কারণ।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান্তা ক্রুজের সামুদ্রিক বিজ্ঞান গবেষকরা জানান, 
ভোঁদড় আসলে ব্যাজার, ফেরেট এবং উলভারিনের ঘনিষ্ঠ বিবর্তনীয় আত্মীয়। বাহ্যিকভাবে শান্ত
মনে হলেও তারা স্বভাবে বেশ আক্রমণাত্মক হতে পারে। তাদের চোয়াল ও কামড়ের শক্তি এত বেশি
যে হাড় পর্যন্ত ভেঙে দিতে সক্ষম। এ কারণেই ভোঁদড় নিয়ে কাজ করা অনেক গবেষক তাদের ‘সমুদ্রের
উলভারিন’ বলেও উল্লেখ করেন।
