# কালো টাকা বৈধ করার উদ্যোগ থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান টিআইবির

- Link: https://znews.news/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a7%88%e0%a6%a7-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%8b%e0%a6%97/
- Published: ২০২৬-০৬-০৬T১৩:০৪:১৮+০৬:০০
- Author: znews

জেড নিউজ, ঢাকা:

কালো টাকা বৈধ করার উদ্যোগ থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি 
ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলেছে, বিনা প্রশ্নে কালো টাকা বৈধ করা
এবং পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে নিঃশর্ত ক্ষমা দেওয়ার যে আলোচনা আসন্ন ২০২৬-২৭
অর্থবছরের বাজেটকে ঘিরে সামনে এসেছে, তা হতাশাজনক ও উদ্বেগজনক।

এক বিবৃতিতে টিআইবি বলেছে, আবাসন খাতের স্থবিরতা দূর করা, শিল্পখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি
কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার যুক্তিতে এ ধরনের সুযোগ দেওয়া সরকারের জন্য
আত্মঘাতী হবে। এটি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতি ও অনিয়মকে স্বাভাবিক করে তোলার 
শামিল। তাই কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ চিরতরে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, স্বাধীনতার পর প্রায় সব
সরকারই কোনো না কোনোভাবে ‘অপ্রদর্শিত অর্থ’ বৈধ করার সুযোগ দিয়েছে, যা সংবিধানের ২০(
২) অনুচ্ছেদের চেতনার পরিপন্থী। বিগত কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে এ প্রক্রিয়া আরও প্রাতিষ্ঠানিক
রূপ পায়। কখনও বিনা প্রশ্নে, আবার কখনও কম করহারে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু এসব উদ্যোগের ফলে করফাঁকি বেড়েছে এবং সৎ করদাতারা নিরুৎসাহিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘কালো টাকা সাদা করার বিধান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন
সরকার বিভিন্ন ধাপে বন্ধ করলেও, বর্তমান সরকারের সেটি পুনরায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা এক
ধাপ এগিয়ে দুই ধাপ পিছিয়ে পড়ার মতো। কারণ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ প্রদান রাষ্ট্রীয়
পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা দেওয়ারই শামিল, যা বর্তমান সরকারকে বিতর্কিত
করার সুযোগ সৃষ্টি করছে। তা ছাড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অঙ্গীকার করে বিপুল
জনরায়ে নির্বাচিত সরকারের এই অনৈতিক ও আত্মঘাতী চর্চা পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে প্রকৃত 
অর্থে কী বার্তা দিতে চাচ্ছেন? এক্ষেত্রে সরকারকে স্বার্থান্বেষী ও সুবিধাবাদী শ্রেণির
চেয়ে দেশের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ বিবেচনাসহ জনআকাঙ্ক্ষা মূল্যায়নে আন্তরিক হওয়া জরুরি।’

জাতীয় জুলাই সনদ ২০২৫ এর ৬৭ ধারায় ব্যক্তির অনুপার্জিত আয় ভোগ করার সুযোগ বন্ধের সাংবিধানিক
বাধ্যবাধকতার পরিপূর্ণ বাস্তবায়নে বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দল ও জোট সর্বসম্মতভাবে অঙ্গীকার
করেছে উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতি
দমন কমিশন সংস্কারসহ ‘দুর্নীতির সাথে কোনো আপস করবে না’ মর্মে অঙ্গীকার করেছে। অথচ 
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যাচ্ছে, আবাসন খাতের লবির প্রভাবে আসন্ন বাজেটে দুদক,
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ অন্য যে কোনো রাষ্ট্রীয় সংস্থার কোনো ধরনের প্রশ্ন করার সুযোগ
না রেখে ‘পরিপূর্ণ দায়মুক্তি’প্রদানের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হবে।
তা ছাড়া দুদক সংস্কার প্রতিবেদনে (সুপারিশ-৩) কালো টাকা সাদা করার সুযোগ চিরতরে বন্ধ
করার সুপারিশ করা হয়েছে। যার প্রতিও বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। মনে রাখতে
হবে, অতীত অভিজ্ঞতা বলছে বারবার কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়েও রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য
ফল পাওয়া যায়নি। বরং মানুষকে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে যে অনিয়ম-দুর্নীতিকে সরকার সুরক্ষা,
প্রশ্রয় ও বিচারহীনতা দিচ্ছে।

সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ
করে তিনি বলেন, বিদেশ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের অর্থ ফেরত আনার আন্তরিক প্রচেষ্টার 
অংশ হিসেবে সরকার যদি এই পরিকল্পনা করে থাকে, সেটা হতে পারে। তবে যারা অবৈধভাবে উপার্জিত
অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত তারা যেন এ সুযোগ নিতে না পারেন। অধিকন্তু অর্থ পাচারের কারণে
ইতোমধ্যে যাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে তাদেরকে অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায়
আনতে হবে, এবং তাদের জন্য কোনো বিবেচনায়ই ‘সাধারণ ক্ষমা’প্রযোজ্য নয়, তা সরকারে নিশ্চিত
করতে হবে। সর্বোপরি, বিগত কতৃত্ববাদী শাসনামলে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হলেও উল্লেখযোগ্য
কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় পরবর্তীতে কখনই আর এই সুযোগ প্রদান করা হয়নি। অর্থাৎ এ জাতীয়
সুযোগ প্রদান একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা ছাড়া কিছু নয়। ইতোমধ্যে সরকার তার সার্বিক কার্যক্রমে
কিছু ইতিবাচক ও আশাজাগানিয়া দৃষ্টান্ত স্থাপনে সক্ষম হয়েছে, তার-ই ধারাবাহিকতায় এবার
কালো টাকা বৈধ করার অসাংবিধানিক, বৈষম্যমূলক ও দুর্নীতিসহায়ক বিধান করা থেকে বিরত থেকে
সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থানের যথার্থতার উদাহরণ স্থাপন করবে এই প্রত্যাশা
করছি।
